জেনে নিন,রোজ চিকেন খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ! - Majaru

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, 23 June 2021

জেনে নিন,রোজ চিকেন খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া !

 




বিকেলের জল খাবার, পার্টি, রেস্তোরাঁ যেখানেই যান চিকেনের রেসিপি গুলো আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। আজকের ফাস্ট ফুডে অভ্যস্ত বাঙালি সকাল বিকেল চিকেন খেয়েই রসা তৃপ্তি করে। একে সুস্বাদু, তায় আবার চিকেন হলে অন্য কোনও পদের প্রয়োজন হয় না। ভাত, রুটি, পরটা, পাস্তা, চাউমিন, স্যুপ, স্যান্ডুইচ যাই খান না কেন তাতে একটু চিকেন হলেই ষোলোকলা পূর্ণ। আর হোটেল, রেস্তোরাঁর কাবাব, কষা, রেজালা, কড়াই, ভুনা, টিক্কা, কিমা, টিকিয়া, তন্দুরি, রোস্ট, বিরিয়ানি তো আপনাকে সিডিউস করার জন্য আছেই। সেভাবে দেখতে গেলে তালিকাটা বিশাল বড়।

চিকেনে প্রেম করে যেই জনচিকেন খেলেই মনটা যেন পবিত্র হয়ে যায়। শরীরের বল আসে। গায়ে পুলক জাগে। আর মুখের অরুচি ধারে কাছে আসতে পারে না। অবশ্য শুধু বাঙালি কেন, বিশ্বজুড়ে চিকেনের প্রতি প্রেমের কোনও ঘাটতি নেই। চিকেনের পুষ্টিগুণও অনেক। অসুস্থ রোগী, ছোটো বা বৃদ্ধদের জন্য চিকেন স্যুপ অতি পুষ্টিকর খাবার। স্বাদ এবং পুষ্টির ক্ষেত্রে সবজি দিয়ে বাঙালি হেঁসেলের পাতলা মুর্গির ঝোলেরও কোনও তুলনা হয় না। এই কারণে অসুস্থ বা সুস্থ শরীর যেমনই থাকুক না কেন পাতে চিকেন চাইই চাই। তার উপর চিকেন খেলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও কম। কিন্তু অতিরিক্ত চিকেন খাওয়া যে স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয় সেটা জানেন কি? অতিরিক্ত চিকেন খেলে যেমন ওজন বা হার্টের সমস্যা হতে পারে তেমনই হতে পারে ফুড পয়জনিং।



অতিরিক্ত প্রোটিন


সুস্বাস্থ্যের দোহাই দিয়ে প্রতিদিন চিকেন তো খাচ্ছেন। কিন্তু তার পুষ্টিগুণ শরীরে ঢুকছে কি? কারণ প্রতিদিন চিকেনের যে সমস্ত পদ খাওয়া হয় তা বেশিরভাগই মশলাদার। তাছাড়া সবসময় কম বয়সী মুর্গি মেলে না। খাবারে বুড়ো মুর্গি লুকোনো থাকে। সেটা সহজে ধরা যায় না। তার উপর ফ্রোজেন চিকেনের রমরমাও কম নয়। সেকারণে অপুষ্টিকর উপায়ে চিকেন খেলে শরীরের অতিরিক্ত প্রোটিন জমা হতে শুরু করে। প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজনীয় ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ ক্যালোরির মধ্যে প্রোটিন থাকা প্রয়োজন। অতিরিক্ত চিকেন খেলে শরীরের ক্রমে ক্রমে চর্বি জমতে শুরু করে। এর ফলে শরীরের ওজন বাড়তে থাকে। রক্তে লিপিডের মাত্রা বাড়ে। তাই হিসেব না করে চিকেন খেয়ে গেলে বিপদ বাড়তে পারে।



খাবারে বিষক্রিয়া



মনে করুন আপনি প্রতিদিন চিকেন খাচ্ছেন। হজমও করে ফেলছেন বিন্দাস। কিন্তু আপনার সঙ্গী বা পরিবারের সদস্য হয়তো অত সহজে মশলাদারক চিকেন হজম করতে পারছেন না। কিংবা আপনি নিজেও লোভে পড়ে চিকেন খাচ্ছেন কিন্তু হজম করতে কষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে কাবাব, তন্দুরির মতো খাবার পোড়া বা অল্প সিদ্ধ খাবার দেখে তাও জিভকে সংবরণ করতে পারছেন না। এটা আদতে বিপদের সংকেত। চিকেন হজম না হওয়া মানে ফুড পয়জনিং। পুষ্টিগুণ বজায় না রেখে চিকেন রান্না করলে স্যামোনেলা বা ক্যাম্পিলোব্যাক্টর নামের ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে। এই ব্যাক্টেরিয়া মানবদেহের ভয়ানক ক্ষতি করে। বিশেষ করে বয়স্ক, শিশু এবং গর্ভবতীদের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ক্ষতিকর।


ভারী ওজন


অন্যান্য মাংসের থেকে চিকেনে চর্বি কম থাকে। অল্প অ্যানিম্যাল প্রোটিন বা ফ্যাট শরীরের পক্ষে ভালো। কিন্তু তা মাত্রা ছাড়ালেই বিপদ। রেস্তোরাঁর রান্না করা চিকেনে বেশিরভাগই বরফচাপা হয়। তাছাড়া প্রসেসড্ চিকেনও অস্বাস্থ্যকর। বুড়ো মুর্গির চর্বিও স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ। নিয়মিত এসব খেলে মানবদেহে চর্বি জমে, ওজন বাড়ে।



অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ


অত্যাধিক চিকেন খেলে শরীরের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। বলাবাহুল্য এর ফলে শরীরে ওষুধ কাজ করে না সংক্রমণ সারতে দেরি হয়। কথায় বলে লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। চিকেনের প্রতি প্রেম অটুট থাক, কিন্তু তা যেন মাত্রা না ছাড়ায়। খেয়াল রাখুন নিজেই।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad