পার্টি করতে গিয়ে ডায়েটের বারোটা বাজছে জেনে নিন কী করা উচিত - Majaru

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, 30 November 2021

পার্টি করতে গিয়ে ডায়েটের বারোটা বাজছে জেনে নিন কী করা উচিত



যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন এবং যে কোনও পরিস্থিতিতেই নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সিরিয়াস, তাঁদের কাছে বছর শেষ এবং নতুন বছর শুরুর এই সন্ধিক্ষণটা মোটেই খুব আনন্দের হয় না। খাবার পাতে প্রলোভনের শেষ নেই। ওদিকে শীতে জবুথবু অবস্থা, রোজের এক্সারসাইজ় বাদ পড়ে যাচ্ছে ঠান্ডার দাপটে। তা ছাড়া বেড়াতে যাওয়া, পিকনিকও লেগেই থাকে এই সময়টায় – নিয়ম করে জিম যাওয়ার সময় বের করাও খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতিতে তা হলে ঠিক কী করা উচিত?


প্রথমেই আপনাকে একটা ব্যাপার মেনে নিতে হবে। নিজেকে বোঝান যে, সারা বছরের প্রতিটি দিনই সুস্থ থাকার সৎ চেষ্টা যাঁরা করেন, তাঁদের এক-আধদিনের অনিয়মে খুব বিরাট কিছু এসে যায় না। বছরের কয়েকটা দিন নতুন গুড়ের পায়েস, কেক, এক-আধ পাত্তর ওয়াইন, রোস্টেড চিকেন খেলে বিরাট মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। যদি গ্যাস-অম্বল-বুকজ্বালা-পেটভারের মতো সমস্যা হয় বা ব্রণ দেখা দেয়, তা হলে বুঝতে হবে যে খাওয়াদাওয়ায় রাশ টানার সময় হয়েছে। সেটা কীভাবে সম্ভব? প্রথমেই খাওয়ার পরিমাণটা কমান। ঠিক যতটা বিরিয়ানি বা ফ্রায়েড রাইস পাতে তুললে মনে শান্তি পেতেন, তার চেয়ে একটু কম তুলুন। গোটা জলভরা সন্দেশ খাবেন না, অর্ধেকটা খান। বাড়িয়ে দিন জল বা তরলের পরিমাণ – সারা দিন অল্প গরম জল খেতে পারেন ছোট ছোট চুমুক দিয়ে। তাতে মেটাবলিজ়ম বাড়ে। দিনের শুরুতে এক কাপ উষ্ণ জলে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে খেয়ে দেখতে পারেন – তা আপনার পাচনতন্ত্রকে অ্যালকালাইজ় করে, ফলে যে কোনও খাবারই হজম করতে সুবিধে হয়। ফল খাওয়ার পরিমাণ, বাড়াতে হবে শাকসবজি খাওয়াও। তবে বাড়ির বাইরে কাঁচা শাকসবজি বা ফল খাওয়ার আগে সাবধান। তা থেকে কিন্তু ভয়ানক ইনফেকশন হতে পারে।


কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে আপনি কিন্তু এই পার্টির মরশুমেও সুস্থ থাকতে পারবেন। এক নম্বর, হাঁটাচলার পরিমাণ বাড়ান। দরকারে এক স্টপ হেঁটে গিয়ে তার পর ট্যাক্সিতে উঠুন। দিনের শুরুতে বা শেষে যখন হোক অন্তত আধ ঘণ্টা হাঁটা মাস্ট – আর যদি হিসেব করে অন্তত ১০০০০ স্টেপ প্রতিদিন হাঁটতে পারেন, তা হলে তো কথাই নেই! দুই, বাড়িতে যখন খাবেন, তখন একেবারে হালকা, পুষ্টিকর খাবার খান। স্যুপ-স্যালাডই যে খেতে হবে তার কোনও মানে নেই কিন্তু! ঝোল-ভাতেও সুস্থ থাকা যায়। তিন, খাদ্যতালিকা থেকে কার্বোহাইড্রেট পুরোপুরি ছেঁটে ফেলাটা মোটেই কাজের কথা নয়। বিশেষ করে রাতেও অল্প কার্বোহাইড্রেট অবশ্যই খান, তা না হলে কিন্তু অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়বে। তিন, বাইরে খাওয়ার সময় প্রোটিন খান বেশি করে। প্রোটিন পেট ভরিয়ে রাখে বেশিক্ষণ। চার, যাই খান না কেন, খুব ভলো করে চিবোতে হবে। খাবার যত চিবোবেন, তত সহজে তা হজম হবে, আপনার ব্রেনও পেট ভরে যাওয়ার সিগনালটা পাবে তাড়াতাড়ি। পাঁচ, একই সঙ্গে খাদ্য ও পানীয়, দুটোর মধ্যে দিয়েই যদি শরীরে প্রচুর ক্যালোরি প্রবেশ করে, তা হলে মুশকিলে পড়বেন। তাই শরবত, ককটেল, মকটেল থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad