ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা উচিত। এছাড়াও নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করতে হবে।
লোমকূপ পরিষ্কার থাকলে এমনিতেই ত্বক দেখায় উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত। ত্বকের গভীরের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য অনেকেই নিয়ে থাকেন স্টিম বা ভাপ। ত্বকের যত্নে স্টিম নেওয়ার ইতিহাসটা বেশ পুরোনো। জলকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ফুটিয়ে বাষ্প তৈরি করা হয়। আর এই ভাপ নেওয়ার মাধ্যমে ত্বক থাকে পরিষ্কার। এ পদ্ধতিতে ত্বকের উপরিভাগে ঘাম সৃষ্টি হয়, আর্দ্রতা বাড়ে, যা ত্বক পরিষ্কার করতে জাদুর মতো কাজ করে। স্টিমে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন গতিশীল হয় এবং ত্বকের উপরিভাগে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসে। অনেকের ত্বকের ওপরে প্রচুর পরিমাণে মৃতকোষ জমে, যাকে বলে হর্নড। স্টিমের আর্দ্রতা এই লেয়ারকে নরম করে দেয়। ফলে ত্বক পরিষ্কার করতে সুবিধা হয়।
:- সবার ত্বকের রঙ এক নয়। মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের তারতম্যের কারণে এ বৈচিত্র্য ঘটে। রোদে মেলানিন বেশি তৈরি হয়। রোদে পোড়ার কারণে ত্বকে এক ধরনের বাদামি ও কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে। এ দাগ দূর করা কঠিন নয়। ঘরে বসেই তা করতে পারেন। টক দই, শসার রস, তিলের তেল এক সঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণটি ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া দিনে একবার রোদ থেকে ফিরে তরমুজের রস লাগাতে পারেন। এক টুকরা নিয়ে কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করুন, ত্বক উজ্জ্বল হবে।
:- শুষ্ক ত্বকের জন্য চন্দনগুঁড়া, দুধের সর আর সামান্য হলুদ একসঙ্গে মিশিয়ে মুখ ও ঘাড়ে লাগান। ১৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বক হবে উজ্জ্বল আর সাথে আসবে মসৃণতা।
:- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এক টুকরো পাকা কলা ভালোভাবে চটকে নিয়ে এতে কয়েক ফোঁটা শসার রস মেশান। এরপর মুখে,গলায় ও ঘাড়ে লাগান। ২০ মিনিট পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এক চা-চামচ মুগ ডাল সামান্য কাঁচা দুধে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পেস্ট করে মুখে-ঘাড়ে মাখুন। ১০ মিনিট পর স্ক্রাব করুন। তারপর জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এটি ত্বকের উপরের মরা কোষের আবরণ সরিয়ে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবে।
:- যাদের ত্বকে নিয়মিত ঘামাচি হয়, তারা নিমপাতার রস লাগালে উপকার পাবেন। তেঁতো জাতীয় খাবার খান। ঘাম বেশি হলে ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে এক চিমটি খাওয়ার সোডা ব্যবহার করতে পারেন। নিয়মিত ডিওডোরান্ট ও বডি স্প্রে ব্যবহার করুন। সমস্যা বেশি হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো ছত্রাকনাশক ক্রিম, লোশন ও পাউডার ব্যবহার করুন।

No comments:
Post a Comment