জেনে নিন,ঘামাচির হাত থেকে মুক্তির পদ্ধতি - Majaru

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, 11 June 2021

জেনে নিন,ঘামাচির হাত থেকে মুক্তির পদ্ধতি

 



গ্রীষ্মকালে যাঁদের বাইরে ঘুরে বেড়িয়ে কাজকর্ম করতে হয়, তাঁদের খুব বিরক্ত করে ঘামাচির সমস্যা৷ সবচেয়ে মুশকিল হয় বাচ্চাদের নিয়ে, কারণ তারা গরমের তোয়াক্কা না করেই খেলাধুলো করে এবং ঘামে ভেজা জামা পরে অনেকক্ষণ কাটায়৷ তাই তাদের ঘামাচি হওয়ার আশঙ্কাও অনেক বেশি৷ শুনতে হয়তো সমস্যাটা খুব বড়ো নয়, কিন্তু জ্বালাভাব আর চুলকানিটা সহ্য করা সত্যিই বেশ মুশকিল৷


ঘামাচি কেন হয়, আগে সেটা জানতে হবে৷ তা হলে সমস্যার গোড়া থেকে নির্মূল করাটাও সহজ হবে৷ অতিরিক্ত ঘামে ত্বকের ছিদ্রের মুখ বন্ধ হয়ে গেলেই ঘামাচি জন্মায়৷ তাই যদি মনে করেন যে গাদা গাদা প্রিকলি হিট পাউডার মাখলেই সমস্যাটা থেকে দূরে থাকা যাবে, তা হলে ভুল ভাবছেন৷ ঘামে ভেজা পোশাক, অন্তর্বাস বদলে ফেলুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব৷ যাঁরা খুব ঘামেন, তাঁরা দিনে দু’-তিনবার পোশাক বদলান৷ বাচ্চাকে স্কুলের পোশাকের নিচে অন্তর্বাস পরান এবং বাড়ি ফেরামাত্রই পোশাক বদলে দিন৷ সব সিন্থেটিক মেটিরিয়াল বাদ দিয়ে সুতি বা লিনেনের ঢিলেঢালা জামাকাপড় পরুন৷ ঘাম যেন শরীরে চেপে বসতে না পারে৷ দিনে অন্তত দু’বার স্নান করুন৷ কিছু কিছু ঘরোয়া উপাদান আপনার খুব কাজে আসতে পারে, সেগুলি অবশ্যই রাখুন হাতের কাছে৷


নিমপাতা: যে কোনও চুলকানির তীব্রতা কমাতে খুব ভালো কাজে আসে নিমপাতা৷ একমুঠো নিমপাতা এক লিটার জলে ১৫ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিন৷ এই জলটা ঠান্ডা করে স্নানের শেষে গায়ে ঢেলে নিন৷ স্নানের জলে এটা মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়৷ নিমের মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি ত্বকের সমস্ত দূষণ দূর করতে পারে, চুলকানি বা ব্যথা কমাতেও তা কার্যকর৷ পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়ে নিমপাতার জলে স্নান করলে ঘামাচির সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন৷ নিমপাতা বেটেও লাগাতে পারেন ত্বকের উপদ্রুত অংশে৷


চন্দনবাটা আর গোলাপজল: চন্দনের প্রলেপ ত্বককে শীতল রাখে৷ গোলাপজল আর চন্দনের মোটা পেস্ট তৈরি করে ঘামাচির উপর লাগিয়ে রাখতে পারেন, শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলবেন৷ এতে চুলকানি থেকে মুক্তি মেলে৷ দিনে একবার এই পেস্ট ব্যবহার করে দেখুন৷


তরমুজের নির্যাস: তরমুজের একটি টুকরো নিয়ে সেটার বীজ বের করে নিন৷ তারপর সেটাকে থেঁতো করে নিন৷ প্রতিদিন এই প্রলেপটি ব্যবহার করতে হবে টানা এক সপ্তাহ ধরে৷ খানিকক্ষণ রেখে তার পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷


দই আর মুলতানি মাটি/ দই আর বেসনের পেস্ট: ত্বকের জ্বালাভাব কমাতে দই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়৷ মুলতানি মাটি আর দইয়ের পেস্ট আপনার ত্বককে ঝরঝরে রাখতে সাহায্য করে৷ তার মধ্যে খানিকটা গোলাপজলও মিশিয়ে নিতে পারেন৷ প্রলেপটা ঘামাচির উপর মিনিট ১৫ লাগিয়ে রাখুন৷ শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন৷ তবে যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা একদিন বাদ দিয়ে দিয়ে মুলতানি মাটির পেস্ট লাগান৷ শুষ্ক ত্বকে কিন্তু ইনফেকশনও বেশি হয়৷

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad